বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের নতুন বার্তা | কী বলল UN?
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের নতুন বার্তা | অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের কথাও রয়েছে। নির্বাচনের তারিখ সামনে রেখে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রস্তুতি ও প্রার্থীদের প্রচারণা।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে নির্বাচনকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
জাতিসংঘ বলেছে, নির্বাচনের জন্য এমন একটি অনুকূল ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে দেশের সব নাগরিক নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন।
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনসংক্রান্ত আরও খবর পেতে আমাদের হোম পেজ দেখুন
জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য
গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন—
জুলাই বিপ্লবের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব কোনো পরামর্শ দেবেন কি না।
এর জবাবে ফারহান হক বলেন,
“নিশ্চয়ই, আমরা নির্বাচন আয়োজনকে উৎসাহিত করি। জাতিসংঘের পুরো ব্যবস্থায় আমরা এটি স্পষ্ট করে বলেছি যে নির্বাচন এমন একটি পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি, যেখানে সবাই নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এর আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়তে পারেন এখানে
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথের উদ্যোগ
এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো।
পর্যবেক্ষক দলে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি দলটিকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের একটি বিশেষ দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।
পর্যবেক্ষক দলের দায়িত্ব ও প্রতিবেদন
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের মূল দায়িত্ব হলো—
নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা।
পর্যবেক্ষণ শেষে দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। মিশন শেষ হলে এই প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহ ও সাধারণ জনগণের জন্য প্রকাশ করা হবে।

Good news
উত্তরমুছুন